আমরা নূতন যৌবনেরই দূত।
আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত।
আমরা বেড়া ভাঙি,
আমরা অশোকবনের রাঙা নেশায় রাঙি।
ঝঞ্ঝার বন্ধন ছিন্ন করে দিই- আমরা বিদ্যুৎ॥
আমরা করি ভুল-
অগাধ জলে ঝাঁপ দিয়ে যুঝিয়ে পাই কূল।
যেখানে ডাক পড়ে জীবন-মরণ-ঝড়ে আমরা প্রস্তুত॥
বোধন - বোধের শৈল্পিক পরিচর্যার আধার। নানান পতন , ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু বোধের উচ্চণ্ড প্রতাপের মধ্যে একটুকরো আদর্শিক মঞ্চ; বোধন। প্রথা ভেঙে ভেঙে ক্রমশ , নিয়মিত অনিয়ম ভেঙে ভেঙে নিয়ম গড়ার একদল শব্দময় তরুণের রক্ত কণিকায় জন্মেছে বোধন – সেই ১৯৮৭’র ৯ জানুয়ারি । যখন স্বৈর শাসনের জলপাই আতঙ্ককে জড়োসরো আমাদের স্বপ্ন-স্বদেশ ।
আজ বোধন নিজেই ২৫ বছরের তরুন।
কিন্তু আজও এক অচেনা অদ্ভুত আঁধার ঢাকা আমাদের মুক্ত আকাশ, আজ আমাদের প্রাণের পতাকা ওরে লক্ষ বিপন্ন মানুষের দীর্ঘশ্বাসের ভারি বাতাসে; ম্রিয়মাণ লাল সবুজের সামনে বিভ্রান্ত – নতজানু তরুণের দল । আর এই অমানিশায় একটুকরো আলোর পিদিম যেন ২৫ বছরের বোধন । স্বপ্নময় তারুণ্যের, মানবিক মানুষের উত্তাল সমাবেশ বোধন আবৃত্তি পরিষদ ।
এত বিষণ্ণতার মধ্যেই বোধন তৈরি করেছে নিজস্ব রঙ, সেই রঙে তার নিজের মতো করেই আঁকতে চায় ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের মাতৃভূমিকে । এতে বোধন তার উদ্দীপ্ত তারুণ্যের সঙ্গী করতে চায় চারিপাশের অগণন – অপ্রকাশ্য মুক্ত চেতনার মানুষদের । আঁধার ভেঙে আলোর বুননে আমরা সঙ্গী করতে চাই সেই সব অগ্রবর্তী চিন্তার মানুষদের । এই বিপরীত পথ চলায় বিভ্রান্ত, নির্লিপ্ত – স্বপ্নহীন ঘুমন্ত মানুষদের জাগিয়ে তোলার এক আপ্রাণ চেষ্টায় বোধনের দৃপ্ত উচ্চারণ – আঁধার ভেঙে আলোর বুনন |